শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
সোহরাওয়ার্দী হোসেন, ব্যুরো প্রধান রাজশাহী;
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সৎ খালা ও তার দুই ছেলেকে হত্যার দায়ে ভাগিনা আইয়ুব আলী সাগরকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়া হয়েছে।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মোঃ নাজির এই মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী আইয়ুব আলী সাগর জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নন্দিগাতি গ্রামের মৃত মকছেদ মোল্লার ছেলে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুর রহমান ও স্টেনোগ্রফার রাশেদুল ইসলাম এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ভিকটিম রওশনারা তার দুই শিশু পুত্র সহ বেলকুচি উপজেলার মবুপুর গ্রামে নিজ বাড়ীতে বসবাস করতেন। তার স্বামী সুলতান আলী তার খোঁজ খবর নিতো না। রওশনারা তাঁত ফ্যাক্টরীতে সুতার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। তার সৎ ভাগিনা আসামী আইয়ুব আলী ঋণগ্রস্ত থাকায় ঘটনার ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রওশনারার বাড়ীতে এসে রওশনারার ব্যবহৃত ট্রাংক ও জিনিসপত্র দেখে তার ধারণা হয় ট্রাংকের মধ্যে অনেক টাকা পয়সা আছে।
আইয়ুব আলী টাকা পয়সা নেয়ার পরিকল্পনা করে এবং ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে রওশনারার বাড়ীতে মেহমান হয়ে আসে এবং রাতে খাওয়া দাওয়া করে রওশনারার ঘরে শুয়ে পড়ে। সে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী গভীর রাতে উঠে ট্রাংকের তালা খুলে ট্রাংক থেকে টাকা বের করার চেষ্টা করলে শব্দে রওশনারার ঘুম ভেঙ্গে যায়। তখন আসামী আইয়ুব আলী মসলা বাটার পাথরের শিল দিয়ে রওশনারার মাথায় আঘাত করলে রওশনারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে শ^ারোধে হত্যা করে।
এর পর ৩ বছর বয়সী পুত্র মাহিন জেগে উঠে কান্নাকাটি শুরু করলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করে। অতঃপর রওশনারার অপর ছেলে জিহাদের ঘুম ভেঙ্গে গেলে আসামী আইয়ুব আলী তাকেও গলা টিপে হত্যা করে মরদেহ ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে দরজা বাহির থেকে শিকল আটকিয়ে চলে যান। ঐ বাড়ীতে আর কোন লোকজন ছিল না।
রওশনারা পর পর দুই দিন তাঁত ফ্যাক্টরীতে কাজে না যাওয়ায় তাঁত ফ্যাক্টরীর মালিক কুদ্দুস রওশনারা কেন কাজে আসলো না এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকেন এবং রওশনারার বোন লিলি খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। লিলি খাতুন রওশনারার বাড়ীতে এসে ঘরের শিকল খুলে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন রওশনারা ও তার দুই ছেলের মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে অর্ধগলিত অবস্থায় পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
এঘটনায় রওশনারার ভাই নুরজ্জামান বাদী হয়ে বেলকুচি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আইয়ুব আলী সাগর কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। হত্যার দায় স্বীকার করে আইয়ুব আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। রাষ্ট্র পক্ষ অভিযোগ প্রমাণের জন্য মোট ১৩ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন করে। স্বাক্ষ্য প্রমান শেষে আজ মামলার একমাত্র আসামী আইয়ুব আলী সাগরকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।